আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ১৫০ কোটি টাকার একটি আন্তঃকোম্পানি ঋণ সুবিধা অনুমোদন করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭৫ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৩৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায়।
তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য ঋণ সুবিধার মেয়াদ হবে ২৪ মাস। তবে প্রতিবার ঋণ উত্তোলনের ড্রডাউনের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ছয় মাস। ঋণ সুবিধাটি পারস্পরিক বাণিজ্যিক শর্তে (আর্মস-লেনথ টার্মস) প্রদান করা হবে।
এছাড়া ওই সভায় মো. রুহুল কুদ্দুস খানকে তিন বছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, সামসুদ্দোহা নাঈমকে হেড অব ফাইন্যান্স ও শারমিন আক্তারকে কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪১ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ টাকা ৬২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১১৬ টাকা ৩০ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের ইপিএস হয়েছে ৩৪ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৯ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২৬ টাকা ৮৩ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের ইপিএস হয়েছে ৪৯ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৭ টাকা ৯০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ২১ পয়সায়।
২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ২৪০ শতাংশ নগদ ও ৬০ শতাংশ স্টক। আলোচ্য হিসাব বছরে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের ইপিএস হয়েছে ৬০ টাকা ৬৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরের যা ছিল ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৩৯ টাকা ৬০ পয়সায়।
১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডকে ইউনিলিভার কর্তৃক অধিগ্রহণের পর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির নতুন নাম হয় ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২০৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৮। এর ৯২ দশমিক ৮১ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৪৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।